ভৌতিক ঘটনা- চৌরাস্তার মোড়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

বাস্তব জীবনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা

চৌরাস্তার মোড়
লেখকঃ স্বপ্নের পথযাত্রী(Loveless Boy)

আমি ফাহিম, পেশায় ব্যাংকার। আমি অগ্রনী ব্যাঙ্কের একটি শাখায় কাজ করি। বছর দুএক আগে ট্রান্সফার নিয়ে এসেছি,আমি আগে যেখানে ছিলাম এখন সেখানকার একটা ঘটনা বলবো। প্রায় ২বছর আগের কথা, আমি যে বাসায় থাকি সেখান থেকে আমার অফিস ১০ মিনিটের রাস্তা,আমার বাসা থেকে বেরিয়ে সোজা রাস্তা ধরে হেটে যেতে হয় সামনেই চৌরাস্তার মোড় ডানদিক দিয়ে গেলেই একটু সামনেই আমার অফিস। আমি যেই চৌরাস্তার মোড়ের কথা বলেছি এই  জায়গাটিতে সমস্যা আছে এর কারণ হলো চৌরাস্তার মোড় হওয়ায় এখানে প্রায়ই একসিডেন্ট হয় আর অনেকে মারাও যায় আর মৃতদের আত্মা নিয়েই সব সমস্যা,লোক মুখে শুনেছি তাদের আত্মা এখানে ঘুরে বেরায়। তাই সন্ধ্যের পর সচরাচর  কেউ এই রাস্তা দিয়ে তেমন একটা যাতায়াত করেনা, আমার  অফিসও ৫ টার পর ছুটি হয়ে যায় তাই ঐ রাস্তা দিয়ে আসতে তেমন কোন অসুবিধা হয়না। 

এই রাস্তায় ঘটেছে এমন অনেক ভৌতিক কাহিনি শুনেছি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা ঘটনা গত সপ্তাহে ঘটেছে, গত সপ্তাহে এখানে একটা ট্রাক একসিডেন্ট করে। ট্রাকের হেল্পার মারা যায় কিন্তু ভাগ্যক্রমে ড্রাইভার বেচে যায়,তার মুখ থেকে পরের দিন শুনা যায় তার একসিডেন্ট করার কারণ হল একটা বাচ্চা সে রাত প্রায় ৯টার দিকে সে ট্রাক নিয়ে যাচ্ছে,চৌরাস্তার কাছে এসে দেখে একটা বাচ্চা রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে,তার চোখ দিয়ে আগুন জ্বলছে। ড্রাইভার ভয়ে ট্রাক থামায়,থামানোর পর বাচ্চাটার উচ্চহাসি সে শুনতে পায়,তার হেল্পার বলে উস্তাদ উপর দিয়ে চালিয়ে দেন। হেল্পারের কথা শুনে চালাতে গিয়ে কি যেন হয়ে গেল আর সে ভেবেই পায়নি হঠাৎ করে সব উলট পালট হয়ে যায় আর তার ট্রাক উল্টে যায়। 


রকম আরও অনেক ঘটনা এখানে ঘটেছে, আমি এইসব কে এতটা বেশি গুরুত্ব দেইনি কারণ সন্ধ্যার পরে আমার এই রাস্তা দিয়ে চলাচলের তেমন কোন প্রয়োজন হয়না।কিন্তু তারপরও আমার সাথে এই রাস্তায় একটা ঘটনা ঘটেছে,আজকে সেই ঘটনাটি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি-

সেদিন ছিল সোমবার,যথারীতি বিকেলেই অফিস ছুটি হয়ে গেছে কিন্তু সেইদিন ছিল আমাদের এক স্টাফ এর বিবাহবার্ষীকি,তো ওর বাড়িতে সন্ধ্যায় পার্টি ছিল। তাই অফিস থেকে বাড়িতে না এসে সবাই চলে গেলাম ওর বাসায়। ওর বাসাটায় যেতে ঐ চৌরাস্তার মোড় পেরিয়ে যেতে হয়,তখন আর এইসব বিষয়ে তেমন কিছু মনে ছিলনা তাই চলে গেলাম। অনেক্ষণ পার্টি এনজয় করলাম,তখন প্রায় রাত ১০টা বাজে আমি বাসায় ফিরবো,বাসায় ফিরার কথা মনে হতেই মাথায় আসলো চৌরাস্তার মোড়ের কথা। কিন্তু তখন আর ভাবার কোন সময় ছিলনা, অনেকটা বাধ্য হয়েই আসছি চৌরাস্তার দিয়েই। 

মোড়ের অনেক কাছকাছি চলে এসেছি হঠাৎ প্রচন্ড জোরে এক কুকুর ডেকে উঠলো,বুকের ভিতরটা ধ্বক করে উঠেছিল সাহস করে এক মনে অন্যকোনদিক লক্ষ্য না করে সোজা হেটে চলছি,মোড়ে পৌছে গেছি এবার হাতের ডানদিকের রাস্তাদিয়ে যেতে হবে। আমি ডানদিকে ঘুরবো এমন সময় এক বুড়িকে দেখতে পেলাম আমার সামনে সে আমাকে বললো,’বাবা ফাহিম, তোর বাসা তো এদিকে নয় তোর বাসা তো বামদিক দিয়ে যেতে হয়’। 

আমি অনেকটা সম্মোহিত হয়ে গেলাম কিন্তু সবকিছু আমার এখনো মনে আছে যদিও সম্মোহিত হলে কারও কিছু মনে থাকেনা,আমি বুড়ির কথায় একমত হয়ে গেলাম,আমার মনে হল বুড়ি ঠিকই বলছে তখন আমি বামদিকে চলে গেলাম আবার বুড়ি আমাকে বলছে,’ফাহিম না এদিকে না পাশের রাস্তা দিয়ে তোর বাড়ি’। আমি আবারো এর পাশের রাস্তাটায় ঘুরে গেলাম আমি এই রাস্তায় প্রবেশ করলাম ঐ বুড়ি বললো,’হ্যা ঠিক আছে এবার এই রাস্তা দিয়ে সোজা হেটে চলে যা’। আমি সোজা হাটতে লাগলাম বুড়িও আমার পিছে পিছে আসতে লাগলো,এই অবস্থাতে আমার ভয় পাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু আমি একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে চলতে লাগলাম যেন আমি কোন একটা রোবট আর আমাকে ঐ বুড়ি নিয়ন্ত্রণ করছে। এই রাস্তা দিয়ে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর সামনে একটা ব্রীজ আসলো,বুড়ি আমাকে বললো,’ফাহিম ঐ ব্রীজের রেলিংয়ে উঠ’। আমি বাধ্য ছেলের মতো ব্রীজের রেলিংয়ে উঠে গেলাম,এবার বুড়ি আমাকে বলল,’এবার নিচে লাফ দে’। আমি এবার দোটানায় পরে গেলাম আমার মন একদিকে বলছে ফাহিম না,না লাফ দিসনা তাহলে তুই শেষ,আবার আরেকদিক থেকে মন বলছে ফাহিম দেরি করিস না তারাতারি লাফ দে, দেখ বুড়ি মা তোর জন্য নিচে অপেক্ষা করছে তুই লাফ দিলে সে তোকে ধরে ফেলবে তোর কোন ক্ষতি হবেনা। আমি দেখলাম সত্যিই বুড়ি নিচে অপেক্ষা করছে,আমি নিজে নিজে বললাম হ্যা ঠিকই তো আছে নিচে বুড়ি দাঁড়িয়ে আছে লাফ দিলে কিছুই হবে না। আমি সোজা নিচে লাফ দিলাম,লাফ দেওয়ার পর আমার জ্ঞান এল,আমি দেখলাম নিচে বুড়ি উচ্চস্বরে হাসছে তার চোখ দুটি টগবগ করছে।

 আমি ধপাস করে পানিতে পড়লাম বুড়ি আমাকে চেপে ধরলো আমি আমার প্রাণপ্রনে বাচার জন্য চেষ্টা করতে লাগলাম,বুড়ি আমাকে চেপে পানির নিচে ধরে রাখলো। আমি কোনমতে মাথা পানির উপরে তুললাম তখন আজানের ধ্বনি শুনতে পেলাম। বুড়ি আমাকে ছেড়ে দিয়ে চিৎকার করে চলে গেল,আমি প্রাণপ্রনে চিৎকার করে সাহায্য চাইতে লাগলাম দেখলাম আমার দিকে একটা নৌকা এগিয়ে আসল,ফজরের সময় এক জেলে মাছ ধরার জন্য বের হয়েছিল সে আমাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসলো। আমি নৌকায় উঠলাম। 

যদিও আমার কাছে লেগেছিলো পুরো ঘটনাটি মাত্র কয়েক মিনিটে ঘটে গেছে কিন্তু আমি সারারাত শহরে হেটেছি আর শেষরাতে ব্রীজে এসেছি আমার ভাগ্য ভাল তখন আযান দিয়েছিল না হলে আজকে হয়তো আমি আপনাদের মাঝে থাকতাম না। এই ঘটনার পরে আমার প্রচন্ড জ্বর হয় প্রায় দুইদিন পর আমি সুস্থ হয়ে উঠি । আমি ঐ এলাকা থেকে এই ঘটনার কিছুদিন পরেই ট্রান্সফার নিয়ে চলে আসি। এই ছিল আমার চৌরাস্তার মোড়ের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা

http://adhitzads.com/843469

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s