মুস্তাফিজুর রহমান

মুস্তাফিজের ফেসবুক থেকে নেয়া, বড় ভাইয়ের সাথে

সম্ভবত সবচেয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়া বাংলাদেশী ক্রিকেটারের নাম মুস্তাফিজুর রহমান। সাতক্ষীরার এই ছেলেটি খুব দ্রুতই বিশ্বক্রিকেটে নিজের এবং বাংলাদেশের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক উঁচুতে নিয়ে যেতে পেরেছে। ১১ জন ক্রিকেটার যখন একসাথে খেলে তখন প্রতিটি ম্যাচেই(জয়ে বা, পরাজয়ে) ১১ জনেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে(আপাতভাবে কাউকে নিষ্ক্রীয় দেখা গেলেও)। এর মাঝে কাউকে যদি বিশেষভাবে চোখে পড়ে বা, স্পষ্ট করে বললে প্রতিপক্ষ শিবিরে ধ্বস নামানোর ক্ষেত্রে এক দুইজন, কোন কোন ক্ষেত্রে ক্যাপ্টেনের ভূমিকা বড় হয়ে দেখা দেয়। 

সেই নিরিখে মুস্তাফিজ সোজা কথায় অসাধারণ, সে দলে থাকলে অন্যরা ভরসা পায় এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানেরাও ভয়ে থাকে। সাকিব বিশ্বমানের, মাশরাফি সবচেয়ে অভিজ্ঞ, তাসকিন বা, রুবেলের গতি সবচেয়ে বেশী-লাইন লেন্থ ঠিকঠাক, মুস্তাফিজের বল খেলার জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। এই চিন্তা যখন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের মাঝে থাকে তখন তাদের ব্যর্থতা অনিবার্য।

একজন পেস বলারের উঠে আসার গল্প

সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত অনুর্ধ ১৬ টুর্নামেন্টে অভিভূত করার মত পারফরম্যান্সের পর বামহাতি পেস বলার মুস্তাফিজ ২০১২ সালে প্রথম সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা এসেছিলেন পেস বলার হান্টে যোগ দিতে। বিসিবি পরিচালিত পেস ফাউন্ডেশনে ভর্তি হয়েছিলেন ঐ সময়ে। এরপর কোচের নজর কাড়েন এবং ২০১৪ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে তিনি প্রথমবারের মত খেলার সুযোগ পান। ২০১৩-২০১৪ মৌসুমে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে তার প্রথম অভিষেক হয়। আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ৮ উইকেট নেয়ার পর মুস্তাফিজকে এ দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ডাকা হয়। ঐ টুরের পরে তার বোলিং এর ধার আরো স্পষ্ট করে চোখে পড়ে। প্রথমদিকে বলের গতি কম থাকলেও ২০১৪-২০১৫ মৌসুমে তিনি আরো গতি আর বৈচিত্র বাড়িয়ে ১৯.something গড়ে ২৬ উইকেট নেন। 

জাতীয় দলে প্রথম টি-টুয়েন্টি অভিষেকে আফ্রিদি(যদিও উইকেটটা ভূয়া ছিল) আর হাফিজের উইকেট নেন। ব্রায়ান ভিটোরির পর তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি তার আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর প্রথম দুই ওয়ানডেতে পরপর ৫ উইকেট নিয়েছেন। এরপর কি করেছেন আর আইপিএলে কি করছেন সেটা নিয়ে মনে হয় না কিছু বলার প্রয়োজন আছে। 

মুস্তাফিজের বাবার কথা দিয়ে শেষ করি- “আমি আফ্রিদির খেলা পছন্দ করতাম, আমার ছেলে যেদিন আফ্রিদিরে আউট করল ভাবলাম ও আফ্রিদিরে আউট করতি পারে, তলি তো সবকিছু করতি পারে”। ধারাভাষ্যকারেরা বলে থাকেন, মুস্তাফিজের স্লো কাটারগুলোর সাথে গতির বলগুলোতে হাত ঘুরানোতে কোন পার্থক্যই খুজে পাওয়া যায় না যা বিভ্রান্তিকর। যেভাবে বৈচিত্র রপ্ত করে চলেছেন আশা করি তাকে বিশ্বসেরা বোলার হিসেবে তাকে দীর্ঘদিন দেখতে পাব।   

তথ্যসূত্রঃ মুস্তাফিজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেজ
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s